শিবগঞ্জে ভারী বর্ষণে ১১৬৮ হেক্টর জমির রবি শস্য তলিয়ে গেছে
ভারী বর্ষণে শিবগঞ্জে বিভিন্ন ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভাতে মোট ১২হাজার ৪৬০ হেক্টর জমির মধ্যে ১১৬৭.৩৩ হেক্টর জমির রবি শস্য পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়েক হাজার কৃষক।কৃষকদের ভাষ্য মতে গত ৫০/৬০ বছরেও এমন ভারী বর্ষণ চোখে দেখেনি। এত ক্ষতিও কোন বছর হয়নি।চরভবানীপুর সিংনগর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনেক কষ্ট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ কওে দুই বিঘা টমেটো,তিন বিঘা সরিষা ও দুই বিঘা জমিতে মাস কলাইয়ের আবাদ করেছিলাম।আর কিছুদিন পরে মাসকলাই ও টমেটো ঘরে তুলতে পারতাম।কিন্তু আমার দূর্ভাগ্য গত শুক্রবারের ভারী বর্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি পথে বসার মত হয়ে গেছি।রানী নগর গ্রামের আব্দুল মালেক জানান,চার বিঘা জমিতে মাস কলাই ছিল। সবটুকুই ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে। একই কথা বললেন রাঘববাটি গ্রামের সাইদুর রহমান,পারচৌকা গ্রামের আবু বিশ্বাস ও খড়িয়াল গ্রামের সাইদুর রহমান,শাহাবাজপুর গ্রামের হাসান আলি,দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের বাইরুল ইসলাম,মিঠুপুরের জসিম উদ্দিন সহ উপজেলার শতাধিক কৃষক এ রকমই হতাশার কথা ব্যক্ত করেন শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে গত শুক্রবারের ভারী বর্ষণে ১২৩ হেক্টর জমির মাস কলাই,৩০৫ হেক্টর জমির সরিষা,৩৭৯ হেক্টর জমির রসুন,৯৮ হেক্টর জমির পেঁয়াজ, ১২ হেক্টর জমির আলু, ৬৮ হেক্টর জমির ভুট্টা,১৩ হেক্টর জমির স্ট্রবেরীও ১১৬ হেক্টর জমির সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।তারমধ্যে শিবগঞ্জ পৌরসভার৩৫৭হেক্টর শাহাবাজপুর ইউনিয়নের ৫৯ হেক্টর,দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নে ২৮ হেক্টর,মোবারকপুর ইউনিয়নে ৩৪ হেক্টর,চককীর্তি ইউনিয়নে ২৭ হেক্টর,কানসাট ইউনিয়ে ৫২ হেক্টর,শ্যামপুর ইউনিয়নে ৪৩হেক্টর,বিনোদপুর ইউনিয়নে ৩৬.২৬ হেক্টর,দূর্লভপুর ইউনিয়নে ১৫৩ হেক্টর,মনাকষা ইউনিয়নে ১৭ হেক্টর,উজিরপুর ইউনিয়নের ২৮ হেক্টর,পাঁকা ইউনিয়নে ১৪৯ হেক্টর, ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে ৭০ হেক্টর,নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে ৩৯.০৭ হেক্টর,ধাইনগর ইউনিয়নের ৪৬ হেক্টও,ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের ২৯ হেক্টর জমির রবি শস্য বা বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন হলো দূর্লভপুর। সেখানকার কৃষকর সরকারের কাছে সঠিক তদন্ত পূর্বক অতিরিক্ত প্রণোদনা দাবী করেন। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া বলেন ভারী বর্ষণের পর হতে প্রতিটি ইউনিয়নে ও শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি মাঠে আমাদের মার্ঠ কর্মী কাজ করছে।কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সেচের মাধ্যমে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলি ডাঙ্গা করার চেষ্টা করছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরী করার কাজ চলছে। তালিকা তৈরীর কাজ শেষ হলেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করা হবে।



