বিজ্ঞাপন
প্রথম পাতাব্যবসা বাণিজ্য

সোনামসজিদ বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত, আটকা ৫০০ ট্রাক

শিবগঞ্জ প্রতিবেদক: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির অভিযোগ তুলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে কর্মবিরতির কারণে বন্দরে প্রায় ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বন্দরে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও পণ্য লোড-আনলোড ও খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো ট্রাক ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে বন্দরে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওয়াসিম আকরামসহ অন্য বক্তারা কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অযথা কর্মচারীদের হয়রানি, কোনো কারণ ছাড়াই কার্ড আটকে রাখা, ফাইল জমা দেওয়ার পর নতুন জটিলতা সৃষ্টি এবং আগে থেকে না জানিয়ে নতুন নিয়ম প্রয়োগের মাধ্যমে নানা সমস্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণের পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত শুল্ক বা জরিমানা আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় অফিসে এসি চালিয়ে রাখার বিষয়টিকেও তাঁরা হয়রানির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, কোনো আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে পণ্য পরীক্ষার নামে কোনো কারণ ছাড়াই সব ট্রাক পানামা পোর্টের ভেতরে নিয়ে আনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এসব অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

এ বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মোহা. মবিন মিয়া ও সদস্য মো. বাইরুল ইসলাম জানান, কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে কমিশনারের প্রতিনিধি, জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ কাস্টমসের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও কর্মচারীদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। তাঁরা রওনা হয়েছেন বলে শুনেছেন। তবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁরা বন্দরে পৌঁছাননি। কর্মচারীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একাত্মতা ঘোষণা না করলেও তাঁদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

সোনামসজিদ পানামা পোর্টের ম্যানেজার মোহা. মাইনুল ইসলাম বলেন, কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আলোচনার জন্য তাঁদের ডেকেছিল। তবে কমিশনার অথবা জয়েন্ট সেক্রেটারি ছাড়া তাঁরা আলোচনায় বসতে রাজি হননি। কর্মবিরতির কারণে বন্দরে প্রায় ৫০০ ট্রাক আটকা রয়েছে। লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো পণ্য খালাস হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী থেকে কমিশনারের প্রতিনিধি আসার কথা থাকলেও বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিনি পৌঁছাননি।

এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহা. মাসুদ রানার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন মাসুম

Related Articles

Back to top button