বিজ্ঞাপন
কৃষি

কৃষিমন্ত্রীর কাছে আহসান হাবিবের ৮ দফা দাবি কি নিয়ে…

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমশিল্পের উন্নয়ন, আমচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমের বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি সম্প্রসারণে কৃষিমন্ত্রীর কাছে আট দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা আহসান হাবিব।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরকালে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কানসাট রাজারবাগানে ১০০ বিঘা জমিতে আম গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, আমের জন্য বিশেষায়িত বোর্ড বা অধিদপ্তর গঠন, শিবগঞ্জে আম চত্বর নির্মাণ এবং আমবাগানে চুইঝাল চাষ সম্প্রসারণে প্রকল্প গ্রহণ।

আহসান হাবিবের প্রস্তাবে বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ১৮ লাখ আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে তিন লাখ গাছে চুইঝাল চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এক লাখ গাছে চুইঝাল উৎপাদন করে ১৫ লাখ কেজি উৎপাদন সম্ভব। প্রতি কেজি এক হাজার টাকা হিসাবে এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

তিনি প্রচলিত প্রণোদনা ও পার্টনার প্রকল্পসহ বিভিন্ন কৃষি প্রকল্প পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, এসব প্রকল্পের পরিবর্তে কৃষকদের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আমশিল্পের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে চা ও তুলার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থাকলেও আমের জন্য পৃথক বোর্ড বা অধিদপ্তর নেই। আমের গবেষণা, মানোন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি সম্প্রসারণে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি আমের জুস, ড্রাই ম্যাংগো, আমসত্ত্ব ও আমের গুঁড়াসহ প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্তত ৫০ জন চাষিকে মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং ১০০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

আম রপ্তানির অবকাঠামো উন্নয়নে রাজশাহী থেকে কার্গো বিমান চালু, আধুনিক প্যাকিং হাউস নির্মাণ এবং আমের সর্টিং ও ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও তুলে ধরেন আহসান হাবিব।

অন্যদিকে, আমচাষিদের কাছ থেকে উৎপাদিত আমের এক-চতুর্থাংশ চাঁদা হিসেবে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তিনি তা বন্ধে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এভাবে অতিরিক্ত আম নেওয়ার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

দাবিগুলোর মধ্যে আম গবেষণা, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আমচাষিদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন মাসুম

Related Articles

Back to top button