চাঁপাইনবাবগঞ্জসু খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চালু হলো অটোমেশন সিস্টেম, চিকিৎসাসেবা হবে আরও সহজ ও আধুনিক

ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকবে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে চালু করা হয়েছে ‘অটোমেশন সিস্টেম’। জেলা পরিষদের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ডিজিটাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুনুর রশীদ বলেন, জেলা পরিষদের এই উদ্যোগের ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই হাসপাতালের সার্বিক সেবাদান কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু থেকে শুরু করে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও চিকিৎসার ইতিহাস (মেডিকেল হিস্টোরি) স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসা প্রদানকে আরও কার্যকর ও সহজ করবে।

তিনি জানান, অটোমেশন সিস্টেমের আওতায় হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগও যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের কী পরিমাণ ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে এবং স্টোরে কী পরিমাণ ওষুধ মজুত রয়েছে, তা সহজেই পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া প্যাথোলজি, এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে রোগীরাও নিজেদের পরীক্ষার একটি কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর এই আধুনিক সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় হারুনুর রশীদ চিকিৎসকদের সরকারি নিয়মনীতি মেনে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেক, মাসিদুল হক নিখিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন আশা প্রকাশ করেন, হাসপাতালের অটোমেশন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে রোগীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে।

Related Articles

Back to top button